ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

শেষ হয়নি রেলের প্রকল্পসমূহের কাজ

  • আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৪ ১০:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৪ ১০:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেষ হয়নি রেলের প্রকল্পসমূহের কাজ
সময় ও ব্যয় বাড়লেও শেষ হয়নি রেলের একাধিক প্রকল্পের কাজ। এমনকি রেলের কিছু কিছু মেগা প্রকল্প গত কয়েক বছর ধরে ধুঁকছে। প্রকল্প ব্যয়ের সঙ্গে সময় বাড়িয়েও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা অর্ধেক কাজ ফেলে চলে গেছে। পরে নতুন করে প্রস্তাব আহ্বান করায় সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। অথচ ওসব প্রকল্প রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে প্রকল্প, ঢাকা-টঙ্গী জয়দেবপুর প্রকল্প, মধুখালী-কামারখালী-মাগুরা প্রকল্প, খুলনা-মংলা পোর্ট প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকবার ওসব প্রকল্পের খরচ ও সময় বেড়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অনভিজ্ঞ ঠিকাদারদের হাতে ওসব প্রকল্প চলে গেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণে বিগত ২০১৫ সালে প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখনো আলোর মুখ দেখেনি ওই প্রকল্প। পাওয়ার চায়না নামের একটি বিদেশি কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছিল। ওই প্রকল্পের ব্যয় এখন ৬৬০ কোটি টাকা। বারবার তাগাদ দেয়ার পরেও বিদেশি ঠিকাদার বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করেছে। অবশেষে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল হয়ে যায়। কিছুদিন আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে কালক্ষেপণ এবং রেলওয়ের লোকসানের জন্য কোম্পানিটিকে কোনো প্রকার দায় বা জরিমানা করা হয়নি। যদিও প্রকল্প পরিচালকের মতে, প্রকল্পের কাজ সাড়ে ৪৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। তাছাড়া টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে দ্বিতীয় ডুয়েলগেজ লাইন এবং ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালে ওই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। এখন ওই প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত ঠিকাদারের অবহেলার কারণে বারবার পিছিয়ে গেছে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। আর রেললাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাঁচামাল সময়মতো সরবরাহ না করার কারণে প্রকল্পে প্রচুর সময় নষ্ট হয়েছে। ওসব কারণে বাস্তবায়ন কাজ বিলম্ব হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ আট বছর শেষ হয়েছে। আগামীতে কবে কাজ শেষ হবে তা কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। সূত্র জানায়, ফরিদপুরের মধুখালী থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে মাগুরা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশ রেলের অংশটুকুর কাজ পেয়েছে ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন এবং দ্বিতীয় অংশ ব্রিজের কাজ করছে মীর আখতার হোসেন লিমিটেড। ঝুলে যাওয়া ওই প্রকল্প মাগুরাবাসীর জন্য দুর্দশা বয়ে এনেছে। বিগত পাঁচ বছরেও রেল এবং ব্রিজ দুই অংশেরই কাজের এক-চতুর্থাংশও শেষ হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে এই কাজ শেষ হলেও প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ওই প্রকল্প যারা বাস্তবায়ন করছে তাদের অভিজ্ঞতা নেই। ফলে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। তাছাড়া মোংলা এবং আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত দুটি রেলপথ নির্মিত হয়েছে। তবে ভারতীয় ঋণে ওই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এরই মধ্যে খুলনা-মোংলা পথে একটি ট্রেন যাত্রা শুরু করলেও আখাউড়া-আগরতলা লাইনে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। ২০১০ সালে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা মংলা রেললাইন প্রকল্প নেয়া হলেও তিন বছরে ওই কাজ শেষ হয়নি বরং পাঁচ বার প্রকল্প সংশোধন করার পরে ১৩ বছরে ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকার রেলের এমন ধরনের প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করবে। এক্ষেত্রে কাদের গাফিলতি আছে তা খুঁজে বের করা হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির পুনর্মূল্যায়নও করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স